বেশ কিছুক্ষণ হোল দিয়া আর নায়লা ডাইনিং রুমের জানালার সামনে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে কথা বলছে, একটু পর পর খিলখিল হাসিতে ভেঙ্গে পড়ছে। মাহিরা বইটা সোফার হাতলে রেখে উঠে দাঁড়াল। রান্নাঘরে যেতে যেতে কিছুক্ষণের জন্য ওকে দেখে স্থির হোল মেয়ে দু’টো। তারপর আবার শুরু হোল খিলখিল ফিসফিস।
মাহিরা ট্রেটা ডাইনিং টেবিলে রেখে ডাক দিলো, ‘নায়লা, দিয়া, খেতে এসো’।
অনিচ্ছাসত্ত্বেও জানালা থেকে সরে এলো ওরা। নায়লা ডালপুরির এক কামড় মুখে পুরে কাপে চুমুক দিয়েই চমকে উঠল, ‘ওয়াও আন্টি! চা?!’
দিয়া বলল, ‘হরলিকস কি শেষ আম্মু?’
মাহিরা বলল, ‘নাহ! তোমরা এখন বড় হয়েছ। তাই চা’।
আয়েশ করে চায়ে চুমক দিচ্ছে দু’জনে, মাহিরা খুব স্বাভাবিকভাবে বলল, ‘পাশের বাসার ছেলেটা মাশাল্লাহ খুব সুন্দর, তাইনা?’
দিয়া নায়লার বিষম খাবার জোগাড়, নায়লা চোখ নামিয়ে বলল, ‘কোন ছেলে আন্টি?’
দিয়া বুঝল মায়ের সাথে চালাকি চলবেনা, বলল, ‘মাশাল্লাহ’।
মাহিরা উঠে দুই মেয়ের মাঝে গিয়ে দাঁড়াল, নায়লার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, ‘সুন্দরকে সুন্দর বলায় কোন অপরাধ নেই মা’।
নায়লা লজ্জা পেল, আন্টি কিভাবে যেন সবার মনের কথা বুঝে যান! মাহিরা বলে চলল, ‘সুন্দরের প্রতি মানুষের আকর্ষন সহজাত। একটা বয়সে এসে ছেলেদের প্রতি মেয়েদের এবং মেয়েদের প্রতি ছেলেদের আকর্ষন সৃষ্টি হওয়াটাও স্বাভাবিক ব্যাপার। এর প্রয়োজনও আছে। নইলে আদম (আ) এবং হাওয়া (আ) কেবল বন্ধুত্ব করতেন, বিয়ে করতেন না, পৃথিবীতে মানবগোষ্ঠী প্রথম প্রজন্মেই বিলুপ্ত হয়ে যেত। তুমি, আমি, দিয়া আজ বসে একসাথে চা খেতে পারতাম না’।
খিল খিল করে ফেলে দু’জনে। একটু পর নায়লা উশখুশ করতে করতে বলেই ফেলল, ‘তাহলে আন্টি ছেলেমেয়ের মেলামেশার ব্যাপারটাকে এত নিরুৎসাহিত করা হয় কেন?’
মাহিরা হেসে বলল, ‘তুমি খুব ভাল প্রশ্ন করেছ মা। দিয়া, তুমি কি জানো ছেলেমেয়ের মেলামেশায় কি সমস্যা?’
দিয়া ভাবনাটাকে মনের ভেতর গুছিয়ে নিতে নিতে বলল, ‘আমার কি মনে হয় জানো, রংধনু আমাদের মোহিত করে। কিন্তু বাস্তব জীবনে সবকিছু কি রংধনু রঙে রাঙানো হয়? সবকিছু রংধনু রঙে রঙ্গিন হলে প্রতিটি রঙের যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, স্বকীয় সৌন্দর্য্য তা কি উদ্ভাসিত হতে পারত কিংবা সৃষ্টজগতের মাঝে কোন বৈচিত্র খুঁজে পাওয়া যেত? আমরা যখন অনেক মানুষের সাথে মিশি তখন প্রত্যেকের কিছু না কিছু গুনাবলী আমাদের আকর্ষন করে। কিন্তু আমরা যখন বিয়ে করতে যাই তখন একই মানুষের মাঝে সব গুনের সমাহার আশা করি। যেমন সিনেমার হিরো একই সাথে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, গায়ক, নর্তক, কবি আর কারাতে ব্ল্যাকবেল্ট হয়,’ ফিক করে হেসে ফেলে দিয়া, ‘কিন্তু বাস্তব জীবনে কোন মানুষের মাঝে সকল গুনের সমাহার অসম্ভব ব্যাপার। তখন যে মেয়েটি অনেক ছেলের সাথে মেলামেশা করেছে সে বিয়ে করলে অবচেতন মনে তুলনা করতে থাকে- এই ব্যাক্তি অমুকের মত গান গাইতে পারেনা, তমুকের মত কবিতা লিখতে পারেনা, অমুকের মত সাহসী নয় কিংবা তমুকের মত স্টাইলিশ নয়। কিন্তু যে মেয়েটির জীবনে তার স্বামীই প্রথম পুরুষ সে তার মাঝে যে গুনাবলীই খুঁজে পায় তাই তাকে আনন্দিত করে’।
মেয়ের আলোচনায় চমৎকৃত হলেও নায়লার মন খারাপ হবে বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলনা মাহিরা, বলল, ‘হুমম, তোমার কথায় যুক্তি আছে। এটা একটা ব্যাপার বটে, তবে এটাই একমাত্র ব্যাপার নয়’।
দিয়া বলল, ‘আরেকটু বিস্তারিত বল না আম্মু’।
মাহিরা বলল, ‘শোন, চোখ হোল মনের প্রবেশপথ। কিন্তু চোখ সবসময় মনকে সঠিক ফিডব্যাক দেয়না। যেমন ধর, পাশের বাসার ছেলেটা খুব সুন্দর। কিন্তু আমরা কি জানি সে মানুষ হিসেবে কেমন- সে কি মেধাবী না বোকা, ভাল ছেলে না ড্রাগখোর কিংবা ওর চরিত্র কেমন?’
দিয়া আর নায়লা দু’জনই মাথা ঝাঁকালো।
‘মানুষের চোখ মানুষকে অনেকসময় বিপথগামী করে। তাই দৃষ্টির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা জরুরী। ছেলেমেয়ে সবসময় একসাথে থাকলে মন সেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পায়না যার দ্বারা সে একটি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে। বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে দৃষ্টি অনেক বড় দুর্বলতা। মনোবিজ্ঞান বলে ওদের মনের ধরনটাই এমন যে এর ওপর রঙ এবং রূপ প্রচন্ডভাবে ক্রিয়া করে। তখন ওদের কোন যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার যোগ্যতা থাকেনা। তাহলে একটা মেয়ে যদি নিজেকে কোন ছেলের সামনে মোহনীয় করে উপস্থাপন করে তাহলে কি সে ছেলেটিকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করল না তার দুর্বলতার সুযোগ নিল?’
নায়লা বলল, ‘ঠিক তো আন্টি! এভাবে তো ভেবে দেখিনি কখনো!’
মাহিরা বলল, ‘তখন কি হয় জানো মা? ক’দিন পর যখন ছেলেটার চোখ ধাঁধানো ভাব কেটে যায়, তারপর শুরু হয় অন্যান্য গুনাবলীর অভাব নিয়ে অসন্তুষ্টি। সংসারে শুরু হয় অশান্তি। ক্ষতিটা কার হয় বল তো? ঠিক, মেয়েটার। কারণ একটা মেয়ের কাছে সংসার যতখানি গুরুত্বপূর্ণ একটি ছেলের কাছে ততটা নয়’।
মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দেয় দিয়া আর নায়লা।
‘আর মেয়েদের ভালোবাসাটা কেমন জানো? সে যেন এক তীব্র স্রোতস্বিনী। একবার বেগ পেলে সে আর দেখেনা সামনে পাহাড় আছে না গহ্বর। সে যেকোন উপায়ে নিজের পথ তৈরী করে নিতে বদ্ধপরিকর। সাগরের মাঝে নিজেকে বিলীন করে দেয়াই যার একমাত্র কাম্য পরিণতি। এই ভালোবাসা মেয়েদের অসাধ্য সাধন করতে শেখায়। এই তেজস্বীতার প্রয়োজন আছে। নইলে কোন মেয়ে পাহাড়সম বোঝা কাঁধে তুলে নিয়ে সংসার করতে পারতনা, পর্বতপ্রমাণ কষ্ট সহ্য করে মা হতে পারতনা, নিজের অসুস্থ সন্তানটাকে সবল এবং সক্ষম সন্তানদের সমান ভালবাসতে পারতনা। কিন্তু মাগো, পানিই জীবন, পানিই মরণ। যে ভালোবাসা দিয়ে একটা মেয়ে সংসারকে সাজায় সে ভালোবাসাই অপরিসীম ধ্বংস ডেকে আনতে পারে যদি তাতে বিবেচনার সংযোগ না ঘটে’।
আঁতকে ওঠে দিয়া, ‘কিভাবে আম্মু?’
নায়লা বলে, ‘আমি বুঝতে পারছি আন্টি, একটা মেয়ে যদি নিজের পরিবার পরিবেশ এবং নিজের সত্ত্বার প্রতি দায়িত্ব ভুলে গিয়ে কেবল মোহের কারণে একটা ছেলের পেছনে ছোটে। কেউ যখন বিবেচনাশূন্য হয়ে কারো প্রতি আকৃষ্ট হয়, যেমন আপনি বললেন পাশের বাসার ছেলেটার ব্যাপারে আসলেই তো আমরা কিছু জানিনা, তখন সে দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য সিদ্ধান্ত নেয় এবং নিজের ভালবাসার অপরিসীম যোগ্যতার কারণে তার পথের সকল বাঁধাকে দুমড়ে মুচড়ে এগিয়ে যায় যার বলি হতে পারে তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, লেখাপড়া থেকে চরিত্র পর্যন্ত! অথচ যার জন্য সে এতটা বাঁধাহীন স্রোত হয়ে ছোটে সে মানুষটা সঠিক না হলে শেষ পর্যন্ত তার নিজের সত্ত্বার প্রতিও সুবিচার করা হয়না কারণ সে হারায় সবকিছুই কিন্তু পায়না কিছুই’।
তিনজনই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে, যেন নদীর স্রোতের সাথে পাহাড় পর্বত ডিঙ্গিয়ে এইমাত্র তীরে ভিড়ল তারা।
দিয়া বলল, ‘তাহলে তো আম্মু আমাদের অনেক বেশি সাবধান হওয়া প্রয়োজন!’
নায়লা বলল, ‘ঠিক আন্টি, এই ব্যাপারগুলো মাথায় রেখেই পথ চলতে হবে এখন থেকে যেন আমাদের অসাবধানতার কারণে আমাদের নিজেদের, আমাদের প্রিয়জনদের কিংবা অপরের ক্ষতি হয়ে না যায় আমাদের দ্বারা’।
মাহিরা হেসে দু’জনের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। তারপর ওদেরকে ওদের মত গল্প করতে দিয়ে সোফায় গিয়ে বসে প্রিয় বইটার সাথে।
খানিকক্ষণ পর দেখে ওরা নাস্তার ট্রে রান্নাঘরে রেখে দিয়ার রুমে গিয়ে বসে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে দিয়া বলে, ‘নিজেদের গড়ে তোলার জন্য অনেক অনেক জ্ঞানার্জন করতে হবে। নইলে পা পিছলে পড়ে যেতে পারি ভুল পথে’।
নায়লা বলে, ‘হুমম, আমাদের আন্টির মত হতে হবে যেন আমরা কেবল নিজেরাই সঠিক পথে না চলি বরং অন্যদেরও সঠিক পথ দেখিয়ে দিতে পারি মমতার সাথে’।
মাথা ঝাঁকিয়ে হাসি লুকোয় মাহিরা, ‘মেয়েগুলো বড় হয়ে যাচ্ছে চোখের সামনেই’।
[ক’দিন আগে আমার কন্যা রাদিয়া আর ওর বান্ধবী নাভেরা কথা বলছিল। বিয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই রাদিয়া বলল, ‘আমি সম্পূর্ন ইসলামী পদ্ধতিতে মসজিদে বিয়ে করব ইনশা আল্লাহ্’।
নাভেরা বলল, ‘কেন রাদিয়া? তুমি তোমার বাবামায়ের একমাত্র মেয়ে। তুমি তো চাইলে অনুষ্ঠান করে বিয়ে করতে পারো!’
রাদিয়া বলল, ‘না পারিনা, কারণ কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ্ আমাকে জিজ্ঞেস করবেন, ‘কত মেয়ের টাকার অভাবে বিয়ে হচ্ছিলোনা। তুমি কেন এত শান শওকত করে বিয়ে করলে? কেন তাদের কথা ভাবলেনা?’’
আমার মনের ইচ্ছেটা আল্লাহ্ আমার মেয়ের মুখ থেকে প্রকাশ করলেন। সবাই দু’আ করবেন যেন আমার সন্তানদের এই সুন্দর ইচ্ছেগুলো সারাজীবন বজায় থাকে, হারিয়ে না যায় এই সমাজের কদর্যতার ঘুর্ণিপাকের আবর্তে।]
** এক ভাই জানতে চেয়েছিলেন মেয়েদের ভালবাসার আদল কেমন হয়। তাঁর অনুরোধ রক্ষার্থেই এই লেখা। তাই এই লেখা তাঁর জন্যই উৎসর্গিত।
লেখাটি নিচের লিঙ্ক থেকে সংগ্রহিতঃ
http://www.onbangladesh.org/blog/blogdetail/detail/3047/rehnuma/37758#.U0lIdvldVvB
Saturday, April 12, 2014
- প্রেম ২ -
‘আপু, একটা বিষয়ে আপনার পরামর্শ চাচ্ছিলাম’।
‘বল’।
‘হয়েছে কি, আমি একটা মেয়েকে পড়াই। মেয়েটার বাবামা খুব বিশ্বাস করে আমাকে এই দায়িত্বটি দিয়েছেন। মেয়েটির স্বভাব চরিত্র অত্যন্ত ভাল। আমি ওর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছি। আমি ওকে বিয়ে করতে চাই’।
‘ছাত্রীদের বিয়ে করা কোন ভাল কথা নয়, এটা আমার ব্যাক্তিগত অভিমত। শিক্ষক যে বয়সেরই হোক না কেন তাঁকে আমি সবসময়ই পিতৃসম সম্মানার্হ মনে করি। শিক্ষকরা যদি ছাত্রীদের দিকে নজর দেয়া শুরু করেন তাহলে তো সমাজে বিশ্বাসের কোন মূল্য থাকবেনা। তবু যদি তুমি তাকে বিয়ে করতে চাও তাহলে তোমার অবিলম্বে কথা বলা উচিত’।
‘তাহলে কি আমি ওকে প্রপোজ করব?’
‘কাকে?!’
‘মেয়েটিকে’।
এবার সত্যি সত্যি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম।
‘মেয়েটিকে কেন প্রপোজ করবে? মেয়েটিকে কি প্রপোজ করবে?!’
‘বলব তাকে আমার ভাল লাগে, আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। এই উদ্দেশ্যে তাকে নিয়ে কিছুদিন ঘুরাঘুরি করে, তার সাথে কথা বলে দেখতে চাই আমাদের কতটুকু বনবে’।
‘বাবারে! এই নিয়ম কোথায় পেলে ভাই? ইসলামের নিয়ম হোল তোমার কাউকে পছন্দ হলে তার বাবা, ভাই বা যিনি অভিভাবক তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে। ওরা তোমার সাথে কথা বলে, তোমার এবং তোমার পরিবারের সম্পর্কে খোঁজখবর করে বিবেচনা করে অতঃপর মেয়েকে জানাবেন। তারপর মেয়ের পছন্দ হলে বিয়ে হবে। তারপর তোমরা সারাজীবন ঘুরে ঘুরে প্রেম করতে পারো, দিনরাত কথাবার্তা বলতে পারো মনের সুখে। বিয়ের আগেই কেন সব করে ফেলতে চাও?’
‘বিয়ের পর না বনলে?’
‘বিয়ের আগে কারো সাথে যতই ঘোরাফেরা কর না কেন তোমাদের উভয়ের উদ্দেশ্য থাকবে পরস্পরকে ইমপ্রেস করা। ক’দিন সুন্দর সুন্দর জামাকাপড় পরে দামী দামী রেস্টুরেন্টে বসে কটা শানিত বুদ্ধিদীপ্ত কথা বললে কি বোঝা যায় সেই মানুষটা কিভাবে রি-অ্যাক্ট করবে যখন তোমার সাথে সংসার করতে গিয়ে তোমার দামী শার্টের নীচে গেঞ্জির বিশাল ফুটোটা ওর চোখে পড়বে, কিংবা যখন ঘরে চিনি ফুরিয়ে গেলে আবার কেনার জন্য পরবর্তী বেতনের অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে, কিংবা সে বুঝতে পারবে তুমি একটা বাল্ব পর্যন্ত মিস্ত্রীর সাহায্য ছাড়া নিজে বদলাতে জানোনা? কিন্তু যে মেয়েটা তোমার বৌ হয়ে আসবে সে তোমার ভালমন্দ সবটুকু গ্রহন করার মানসিকতা নিয়েই আসবে। তাকে ইমপ্রেস করার জন্য তোমার প্রতিনিয়ত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবেনা। বরং তোমার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রচেষ্টা তার সন্তুষ্টির কারণ হবে, তোমার বৃহৎ বৃহৎ ভুলগুলোও সে নিজ চেষ্টায় শুধরে নেবে যেহেতু সে তোমাকে জীবনের একমাত্র অপশন মনে করে’।
‘কিন্তু আপু, তারপরও তো অনেকের বিবাহবিচ্ছেদ হয়’।
‘হুমম, তা হয়। হবেনা কেন? দু’জন মানুষ সম্পূর্ন ভিন্ন দু’টি পরিবার এবং পরিবেশ থেকে এসে একসাথে মিলে যাওয়া কি এতই সহজ? দু’জনের মাঝেই প্রয়োজন ধৈর্য্য, সহনশীলতা, সংবেদনশীলতা এবং অপর ব্যাক্তিটির প্রতি বিশ্বাস ও সহমর্মিতা। আবার ধর, একটি ছেলে বা মেয়ে যে বিয়ের আগেই অনেককে পরখ করে নিয়েছে, সে তার পার্টনারের মাঝে সেই সকল গুন খুঁজবে কিংবা তাকে তাদের সাথে তুলনা করবে অবচেতনেই। তখন বর্তমান পার্টনারের গুনগুলো তার যতটা না চোখে পড়বে বরং তার ঘাটতিগুলোই তার কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়াবে। তখন বিচ্ছেদ হবে বৈকি! কিন্তু কি জানো?’
‘কি?’
‘সামাজিকভাবে বিবাহিতা একটি মেয়ের যদি বিচ্ছেদ হয়ে যায় তবে তার পরিবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, আবার বিয়ে দেয় কিংবা প্রয়োজন হলে আজীবন তার দেখাশোনা করে কিংবা অন্তত তার বিপদ আপদে পাশে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু বিয়ের আগে তুমি যদি একটি মেয়ের সঙ্গ উপভোগ করে অতঃপর বনবেনা ভেবে ফিরিয়ে দাও সে পরিবার পরিজন বন্ধুবান্ধব কারো কাছে সহানুভূতি বা সহায়তা পাবেনা, তদুপরি মেয়েটিকে বিয়ে দেয়াও মুশকিল হয়ে যাবে। তুমি যদি কাউকে সত্যিই ভালোবাসো তাহলে তার দায়িত্ব নিতে বা দায়িত্ব নেয়ার উপযোগী হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে তোমার আপত্তি কোথায়? এ’ কেমন প্রেম যেখানে শুধু ভোগ আছে অথচ ত্যাগ নেই?’
‘কিন্তু আমি তো তাকে বিয়ে করতে চাই!’
‘কিন্তু করবে কি’না তা নিশ্চিত নও’।
‘আমার উদ্দেশ্যটা তো তাই’।
‘ভাইরে, শোন। প্রবাদে যাই বলুক না কেন, the end does NOT justify the means. এই যে সমাজে প্রেমের নামে এত বিশৃংখলা আর কষ্টের ছড়াছড়ি – নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে ধর্ষন, নিজের চাহিদায় লাগাম দিতে না পেরে অনাকঙ্খিতভাবে সন্তানধারণ, প্রেমে ব্যার্থ হয়ে আত্মহত্যা, বিয়ের পর প্রাক্তন প্রেমিক প্রেমিকার প্রতি আবেগ উথলে ওঠার কারণে বর্তমান সম্পর্কের প্রতি অমনোযোগী হয়ে সংসারে অশান্তি – এখানে কোনটার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল ভাই? কিন্তু এখানে end বা means কোনটি justify করা যায়? আমাদের নিজেদের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণের মাত্রা সম্পর্কেও তো কোন ভুল ধারণা থাকা উচিত না। আমাদের ভেতর থেকে নাফস এবং বাইরে থেকে চিরশত্রু ইবলিস সারাক্ষণ ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের সূঁচ পরিমাণ ছাড় দিলে তারা কোদাল দিয়ে আমাদের কবরের মাটি খুঁড়তে থাকে’।
‘এভাবে তো ভাবা হয়নি!’
‘এখন ভাবো। তুমি যে মেয়েটিকে ভালোবাসো সে তো হবে তোমার সম্মানের পাত্রী যার প্রতি তোমার কল্পনাগুলোও হবে পবিত্র এবং সংযত, সেখানে তোমার আচরনে যদি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় তাতে কি ভালোবাসার সম্মান রক্ষা হয় ভাই? বিয়ের পর সে হবে তোমার দূর্গ যেখানে তুমি শয়তানের কবল থেকে আশ্রয় খুঁজে পাবে। কিন্তু সেই দূর্গের দ্বার যদি তুমি আজ নিজ হাতে ভেঙ্গে ফেল তাহলে সেই দূর্গের ওপর কি তুমি কোনদিন আর আস্থা রাখতে পারবে?’
অনেকক্ষণ ভাবল সে।
‘ঠিক বলেছেন আপু। তখন আমার কেবল মনে হবে আমার আগে সে কার কার সাথে মিশেছে, ওদের সাথে ওর কতটুকু ভাব ছিল, কাউকে ওর আমার চেয়ে বেশি পছন্দ ছিল কিনা। আমি তার জীবনে একমাত্র পুরুষ হতে চাই। কিন্তু সত্যিই যদি আমি তাই হই তবু আমার মনে হবে সে আমার মন ভোলানোর জন্য এমন বলছে, নিশ্চয়ই সে যেমন আমার সাথে মিশেছে তেমনি অন্য কারো সাথেও মিশে থাকবে’।
‘তাহলে কেন জেনেশুনে একটি সহজসরল মেয়েকে এমন পথে পরিচালিত করতে চাও ভাই যেখানে তার জীবনটা সাজাতে গিয়ে জীবনটা শেষও করে ফেলতে পারো তুমি? তার চেয়ে তুমি ওর বাবার সাথে কথা বল। তুমি বলেছ তিনি তোমাকে বিশ্বাস করেন। তিনিও খুশি হবেন যে তুমি তাঁর বিশ্বাসের মর্যাদা রেখেছ, তিনিই তখন মেয়েটিকে তোমার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে সচেষ্ট হবেন। তুমি তোমার লক্ষ্যে উপনীত হবে নির্ঝঞ্ঝাটে এবং মেয়েটিরও সম্মানের কোন ক্ষতি হবেনা’।
‘কিন্তু আপু, ধরেন আমি প্রস্তাব করলাম কিন্তু ওরা রাজী হলেন না?’
‘শোন ভাই, তুমি কি সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস কর?’
‘অবশ্যই’।
‘তুমি কি বিশ্বাস কর যে তিনি তোমাকে এবং তোমার লাইফ পার্টনারকে জোড়া মিলিয়ে সৃষ্টি করেছেন?’
‘জ্বী’।
‘তাহলে বিশ্বাস রাখো, এই মেয়েটি যদি তোমার নির্ধারিত লাইফ পার্টনার হয় তাহলে সে তোমার কাছেই আসবে। তা নইলে তোমার সততা এবং উত্তম নিয়াতের জন্য আল্লাহ তোমাকে এর চেয়ে ভাল লাইফ পার্টনার দান করবেন’।
‘আমার যদি অন্য কোন মেয়েকে পছন্দ না হয়?’
‘তুমি যদি একজনের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রাখো তাহলে অন্যের দিকে তাকাবে কি করে? তাকে যাচাই করবেই বা কিভাবে? কিন্তু তুমি যদি সাদা মন নিয়ে তার কাছে যাও, তাকে সুযোগ দাও, তাহলে সে তোমার মনের সাদা ক্যানভাসে রঙিন তুলি দিয়ে ছবি আঁকবে, তুমি বুঝতে পারবে তুমি যা চেয়েছিলে তার তুলনায় তুমি কত বেশি পেয়েছ। নইলে তুমি অন্য কারো লাইফ পার্টনারকে নিজের করে নেয়ার প্রচেষ্টায় কি পেয়েছ তা অ্যাপ্রিশিয়েট করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে’।
‘হুমম’।
‘এবার একটু ভেবে দেখ তো তোমার লাইফ পার্টনার নিয়ে অন্য কেউ টানাটানি করছে এমনটা কল্পনা করতে তোমার কেমন লাগছে?’
কিছুক্ষণ ভেবে সে বলল, ‘ভীষণ খারাপ লাগছে আপু। আমি ভাবতেই পারছিনা। কিন্তু আমি কি করে বুঝব যে আসলেই আমার লাইফ পার্টনার আমার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে আমি তার কাছে পৌঁছনো পর্যন্ত?’
‘একটাই উপায় আছে ভাই। যিনি সর্বস্রষ্টা এবং সর্বদ্রষ্টা তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে হবে যেন আমাদের পছন্দের মানুষটি নিজেকে সংরক্ষণ করে কেবল আমাদের জন্যই। সাথে নিজেকেও এমনভাবে সংরক্ষণ করতে হবে যেন আমি তাকে গিয়ে বলতে পারি, ‘এই যে দেখ, আমার সবটুকু আমি বাঁচিয়ে রেখেছি কেবল তোমার জন্য। এর কোথাও কখনো তোমার ছাড়া আর কারো অধিকার ছিলোনা, আজ থেকে আমার সবকিছুর ওপর তোমার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোল’। কি, বল? এটুকু বিশ্বাস রাখতে পারবে তো?’
লাজুক হেসে ভাইটি বলে, ‘জ্বী আপু, এটুকু যে আমাকে পারতেই হবে!’
আসলে আমরা সবাই সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ করতে চাই, কিন্তু অনেকসময় লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং পন্থা মিলাতে পারিনা। এত সীমিত বুদ্ধি এবং ক্ষমতা নিয়ে আমাদের এমন অনিশ্চিত পথে যাত্রা করার চেয়ে যিনি সর্বজ্ঞানী তাঁর জ্ঞানের ওপর ভরসা রেখে তাঁর নির্দেশিত পন্থায় পথ চলাই শ্রেয় নয় কি?
‘বল’।
‘হয়েছে কি, আমি একটা মেয়েকে পড়াই। মেয়েটার বাবামা খুব বিশ্বাস করে আমাকে এই দায়িত্বটি দিয়েছেন। মেয়েটির স্বভাব চরিত্র অত্যন্ত ভাল। আমি ওর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছি। আমি ওকে বিয়ে করতে চাই’।
‘ছাত্রীদের বিয়ে করা কোন ভাল কথা নয়, এটা আমার ব্যাক্তিগত অভিমত। শিক্ষক যে বয়সেরই হোক না কেন তাঁকে আমি সবসময়ই পিতৃসম সম্মানার্হ মনে করি। শিক্ষকরা যদি ছাত্রীদের দিকে নজর দেয়া শুরু করেন তাহলে তো সমাজে বিশ্বাসের কোন মূল্য থাকবেনা। তবু যদি তুমি তাকে বিয়ে করতে চাও তাহলে তোমার অবিলম্বে কথা বলা উচিত’।
‘তাহলে কি আমি ওকে প্রপোজ করব?’
‘কাকে?!’
‘মেয়েটিকে’।
এবার সত্যি সত্যি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম।
‘মেয়েটিকে কেন প্রপোজ করবে? মেয়েটিকে কি প্রপোজ করবে?!’
‘বলব তাকে আমার ভাল লাগে, আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। এই উদ্দেশ্যে তাকে নিয়ে কিছুদিন ঘুরাঘুরি করে, তার সাথে কথা বলে দেখতে চাই আমাদের কতটুকু বনবে’।
‘বাবারে! এই নিয়ম কোথায় পেলে ভাই? ইসলামের নিয়ম হোল তোমার কাউকে পছন্দ হলে তার বাবা, ভাই বা যিনি অভিভাবক তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে। ওরা তোমার সাথে কথা বলে, তোমার এবং তোমার পরিবারের সম্পর্কে খোঁজখবর করে বিবেচনা করে অতঃপর মেয়েকে জানাবেন। তারপর মেয়ের পছন্দ হলে বিয়ে হবে। তারপর তোমরা সারাজীবন ঘুরে ঘুরে প্রেম করতে পারো, দিনরাত কথাবার্তা বলতে পারো মনের সুখে। বিয়ের আগেই কেন সব করে ফেলতে চাও?’
‘বিয়ের পর না বনলে?’
‘বিয়ের আগে কারো সাথে যতই ঘোরাফেরা কর না কেন তোমাদের উভয়ের উদ্দেশ্য থাকবে পরস্পরকে ইমপ্রেস করা। ক’দিন সুন্দর সুন্দর জামাকাপড় পরে দামী দামী রেস্টুরেন্টে বসে কটা শানিত বুদ্ধিদীপ্ত কথা বললে কি বোঝা যায় সেই মানুষটা কিভাবে রি-অ্যাক্ট করবে যখন তোমার সাথে সংসার করতে গিয়ে তোমার দামী শার্টের নীচে গেঞ্জির বিশাল ফুটোটা ওর চোখে পড়বে, কিংবা যখন ঘরে চিনি ফুরিয়ে গেলে আবার কেনার জন্য পরবর্তী বেতনের অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে, কিংবা সে বুঝতে পারবে তুমি একটা বাল্ব পর্যন্ত মিস্ত্রীর সাহায্য ছাড়া নিজে বদলাতে জানোনা? কিন্তু যে মেয়েটা তোমার বৌ হয়ে আসবে সে তোমার ভালমন্দ সবটুকু গ্রহন করার মানসিকতা নিয়েই আসবে। তাকে ইমপ্রেস করার জন্য তোমার প্রতিনিয়ত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবেনা। বরং তোমার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রচেষ্টা তার সন্তুষ্টির কারণ হবে, তোমার বৃহৎ বৃহৎ ভুলগুলোও সে নিজ চেষ্টায় শুধরে নেবে যেহেতু সে তোমাকে জীবনের একমাত্র অপশন মনে করে’।
‘কিন্তু আপু, তারপরও তো অনেকের বিবাহবিচ্ছেদ হয়’।
‘হুমম, তা হয়। হবেনা কেন? দু’জন মানুষ সম্পূর্ন ভিন্ন দু’টি পরিবার এবং পরিবেশ থেকে এসে একসাথে মিলে যাওয়া কি এতই সহজ? দু’জনের মাঝেই প্রয়োজন ধৈর্য্য, সহনশীলতা, সংবেদনশীলতা এবং অপর ব্যাক্তিটির প্রতি বিশ্বাস ও সহমর্মিতা। আবার ধর, একটি ছেলে বা মেয়ে যে বিয়ের আগেই অনেককে পরখ করে নিয়েছে, সে তার পার্টনারের মাঝে সেই সকল গুন খুঁজবে কিংবা তাকে তাদের সাথে তুলনা করবে অবচেতনেই। তখন বর্তমান পার্টনারের গুনগুলো তার যতটা না চোখে পড়বে বরং তার ঘাটতিগুলোই তার কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়াবে। তখন বিচ্ছেদ হবে বৈকি! কিন্তু কি জানো?’
‘কি?’
‘সামাজিকভাবে বিবাহিতা একটি মেয়ের যদি বিচ্ছেদ হয়ে যায় তবে তার পরিবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, আবার বিয়ে দেয় কিংবা প্রয়োজন হলে আজীবন তার দেখাশোনা করে কিংবা অন্তত তার বিপদ আপদে পাশে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু বিয়ের আগে তুমি যদি একটি মেয়ের সঙ্গ উপভোগ করে অতঃপর বনবেনা ভেবে ফিরিয়ে দাও সে পরিবার পরিজন বন্ধুবান্ধব কারো কাছে সহানুভূতি বা সহায়তা পাবেনা, তদুপরি মেয়েটিকে বিয়ে দেয়াও মুশকিল হয়ে যাবে। তুমি যদি কাউকে সত্যিই ভালোবাসো তাহলে তার দায়িত্ব নিতে বা দায়িত্ব নেয়ার উপযোগী হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে তোমার আপত্তি কোথায়? এ’ কেমন প্রেম যেখানে শুধু ভোগ আছে অথচ ত্যাগ নেই?’
‘কিন্তু আমি তো তাকে বিয়ে করতে চাই!’
‘কিন্তু করবে কি’না তা নিশ্চিত নও’।
‘আমার উদ্দেশ্যটা তো তাই’।
‘ভাইরে, শোন। প্রবাদে যাই বলুক না কেন, the end does NOT justify the means. এই যে সমাজে প্রেমের নামে এত বিশৃংখলা আর কষ্টের ছড়াছড়ি – নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে ধর্ষন, নিজের চাহিদায় লাগাম দিতে না পেরে অনাকঙ্খিতভাবে সন্তানধারণ, প্রেমে ব্যার্থ হয়ে আত্মহত্যা, বিয়ের পর প্রাক্তন প্রেমিক প্রেমিকার প্রতি আবেগ উথলে ওঠার কারণে বর্তমান সম্পর্কের প্রতি অমনোযোগী হয়ে সংসারে অশান্তি – এখানে কোনটার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল ভাই? কিন্তু এখানে end বা means কোনটি justify করা যায়? আমাদের নিজেদের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণের মাত্রা সম্পর্কেও তো কোন ভুল ধারণা থাকা উচিত না। আমাদের ভেতর থেকে নাফস এবং বাইরে থেকে চিরশত্রু ইবলিস সারাক্ষণ ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের সূঁচ পরিমাণ ছাড় দিলে তারা কোদাল দিয়ে আমাদের কবরের মাটি খুঁড়তে থাকে’।
‘এভাবে তো ভাবা হয়নি!’
‘এখন ভাবো। তুমি যে মেয়েটিকে ভালোবাসো সে তো হবে তোমার সম্মানের পাত্রী যার প্রতি তোমার কল্পনাগুলোও হবে পবিত্র এবং সংযত, সেখানে তোমার আচরনে যদি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় তাতে কি ভালোবাসার সম্মান রক্ষা হয় ভাই? বিয়ের পর সে হবে তোমার দূর্গ যেখানে তুমি শয়তানের কবল থেকে আশ্রয় খুঁজে পাবে। কিন্তু সেই দূর্গের দ্বার যদি তুমি আজ নিজ হাতে ভেঙ্গে ফেল তাহলে সেই দূর্গের ওপর কি তুমি কোনদিন আর আস্থা রাখতে পারবে?’
অনেকক্ষণ ভাবল সে।
‘ঠিক বলেছেন আপু। তখন আমার কেবল মনে হবে আমার আগে সে কার কার সাথে মিশেছে, ওদের সাথে ওর কতটুকু ভাব ছিল, কাউকে ওর আমার চেয়ে বেশি পছন্দ ছিল কিনা। আমি তার জীবনে একমাত্র পুরুষ হতে চাই। কিন্তু সত্যিই যদি আমি তাই হই তবু আমার মনে হবে সে আমার মন ভোলানোর জন্য এমন বলছে, নিশ্চয়ই সে যেমন আমার সাথে মিশেছে তেমনি অন্য কারো সাথেও মিশে থাকবে’।
‘তাহলে কেন জেনেশুনে একটি সহজসরল মেয়েকে এমন পথে পরিচালিত করতে চাও ভাই যেখানে তার জীবনটা সাজাতে গিয়ে জীবনটা শেষও করে ফেলতে পারো তুমি? তার চেয়ে তুমি ওর বাবার সাথে কথা বল। তুমি বলেছ তিনি তোমাকে বিশ্বাস করেন। তিনিও খুশি হবেন যে তুমি তাঁর বিশ্বাসের মর্যাদা রেখেছ, তিনিই তখন মেয়েটিকে তোমার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে সচেষ্ট হবেন। তুমি তোমার লক্ষ্যে উপনীত হবে নির্ঝঞ্ঝাটে এবং মেয়েটিরও সম্মানের কোন ক্ষতি হবেনা’।
‘কিন্তু আপু, ধরেন আমি প্রস্তাব করলাম কিন্তু ওরা রাজী হলেন না?’
‘শোন ভাই, তুমি কি সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস কর?’
‘অবশ্যই’।
‘তুমি কি বিশ্বাস কর যে তিনি তোমাকে এবং তোমার লাইফ পার্টনারকে জোড়া মিলিয়ে সৃষ্টি করেছেন?’
‘জ্বী’।
‘তাহলে বিশ্বাস রাখো, এই মেয়েটি যদি তোমার নির্ধারিত লাইফ পার্টনার হয় তাহলে সে তোমার কাছেই আসবে। তা নইলে তোমার সততা এবং উত্তম নিয়াতের জন্য আল্লাহ তোমাকে এর চেয়ে ভাল লাইফ পার্টনার দান করবেন’।
‘আমার যদি অন্য কোন মেয়েকে পছন্দ না হয়?’
‘তুমি যদি একজনের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রাখো তাহলে অন্যের দিকে তাকাবে কি করে? তাকে যাচাই করবেই বা কিভাবে? কিন্তু তুমি যদি সাদা মন নিয়ে তার কাছে যাও, তাকে সুযোগ দাও, তাহলে সে তোমার মনের সাদা ক্যানভাসে রঙিন তুলি দিয়ে ছবি আঁকবে, তুমি বুঝতে পারবে তুমি যা চেয়েছিলে তার তুলনায় তুমি কত বেশি পেয়েছ। নইলে তুমি অন্য কারো লাইফ পার্টনারকে নিজের করে নেয়ার প্রচেষ্টায় কি পেয়েছ তা অ্যাপ্রিশিয়েট করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে’।
‘হুমম’।
‘এবার একটু ভেবে দেখ তো তোমার লাইফ পার্টনার নিয়ে অন্য কেউ টানাটানি করছে এমনটা কল্পনা করতে তোমার কেমন লাগছে?’
কিছুক্ষণ ভেবে সে বলল, ‘ভীষণ খারাপ লাগছে আপু। আমি ভাবতেই পারছিনা। কিন্তু আমি কি করে বুঝব যে আসলেই আমার লাইফ পার্টনার আমার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে আমি তার কাছে পৌঁছনো পর্যন্ত?’
‘একটাই উপায় আছে ভাই। যিনি সর্বস্রষ্টা এবং সর্বদ্রষ্টা তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে হবে যেন আমাদের পছন্দের মানুষটি নিজেকে সংরক্ষণ করে কেবল আমাদের জন্যই। সাথে নিজেকেও এমনভাবে সংরক্ষণ করতে হবে যেন আমি তাকে গিয়ে বলতে পারি, ‘এই যে দেখ, আমার সবটুকু আমি বাঁচিয়ে রেখেছি কেবল তোমার জন্য। এর কোথাও কখনো তোমার ছাড়া আর কারো অধিকার ছিলোনা, আজ থেকে আমার সবকিছুর ওপর তোমার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোল’। কি, বল? এটুকু বিশ্বাস রাখতে পারবে তো?’
লাজুক হেসে ভাইটি বলে, ‘জ্বী আপু, এটুকু যে আমাকে পারতেই হবে!’
আসলে আমরা সবাই সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ করতে চাই, কিন্তু অনেকসময় লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং পন্থা মিলাতে পারিনা। এত সীমিত বুদ্ধি এবং ক্ষমতা নিয়ে আমাদের এমন অনিশ্চিত পথে যাত্রা করার চেয়ে যিনি সর্বজ্ঞানী তাঁর জ্ঞানের ওপর ভরসা রেখে তাঁর নির্দেশিত পন্থায় পথ চলাই শ্রেয় নয় কি?
লেখাটি নিচের লিঙ্ক থেকে সংগ্রহিতঃ
- প্রেম ১ -
আমার এক ক্যানাডিয়ান সহকর্মী আলাপ করছিল, ওর বাবামার যখন বিয়ে হয় তখন ওর মায়ের বয়স আঠারো আর বাবার বয়স বিশ। বিয়ের তিনমাসের মাথায় ওর বড়বোনের জন্ম। বোঝাই যায় বিয়েটা ছিল সামাজিকতা রক্ষার তাগিদে, সুখের টানে নয়। বিয়ের পর ওর বাবা সংসারের দায়িত্বের চাপে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ব্যার্থ হয়, ওর মা পড়াশোনা করে উকিল হন। এক পর্যায়ে এই শিক্ষিতা, স্মার্ট এবং মোটা টাকা উপার্জনকারী মহিলার এই অশিক্ষিত এবং স্বল্প উপার্জনকারী স্বামীকে নিজের সাথে বড় বেমানান মনে হতে থাকে। বিয়ের একুশ বছর পর স্ত্রী এক পুরুষকে এবং স্বামী আরেক মহিলাকে নিয়ে আলাদা হয়ে যান। আমার সহকর্মী মেয়েটির বয়স তখন সতেরো। সতেরো বছর বয়সে সে অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। এ’সময় থেকে সে অসহায়ত্ব এবং একাকীত্ব থেকে মুক্তি পেতে এক বয়ফ্রেন্ড থেকে আরেক বয়ফ্রেন্ডের আশ্রয় নিতে থাকে। তবে গত বারো বছর যাবত সে একজনের সাথে বসবাস করছে। আমার চাইনিজ বান্ধবী জেইন বলল, ‘তুমি তাকে বিয়ে করলেই পারো’। সে বলে, ‘পাগল! আমার মায়ের ডিভোর্স হয়ে যাবার পর আমি কিছুদিন জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি পারিবারিক আইন অফিসে কাজ করেছি। সেখানে আমার বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে এমন সব ভীতিকর অভিজ্ঞতা হয়েছে যে আমি তখনই সিদ্ধান্ত নেই আমি কোনদিন বিয়ে করবনা’। ওর বড়বোনের বিয়ে হোল মাত্র ক’দিন আগে। বিবাহভীতি কাটিয়ে উঠতে উঠতে তাঁর বেয়াল্লিশ বছর বয়স হয়ে যায়। এখন তিনি বিবাহিত হলেও সন্তানধারনে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। আমার সহকর্মীরও সন্তান নেয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। এমন উপাখ্যান এখানকার ঘরে ঘরে। সচেতন বাবামায়েরা সন্তানদের চার্চে নিয়ে গিয়ে প্রতিজ্ঞা করান তারা বিয়ের আগে পর্যন্ত কুমারী থাকবে যেন বুঝেশুনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার অবকাশ থাকে এবং এমন দুঃখজনক পরিণতি এড়ানো যায়। কিন্তু প্রচলিত সমাজব্যাবস্থা এবং দৃঢ় নৈতিক বন্ধনের অভাবের কারণে অনেকেই এই প্রতিজ্ঞা শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারেনা। ফলে ভুগতে হয় সারাজীবন।
প্রেম একটি অসাধারন এবং মোহময় অনুভূতি। সেদিন দেখলাম এক বুড়ো দাদা যিনি নিজেই সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না, ওষুধের দোকান থেকে বেরিয়ে একহাতে তাঁর বৃদ্ধা স্ত্রীকে শক্ত করে ধরে আরেক হাত মাথার ওপর দিয়ে অতি সাবধানে গাড়ীতে বসিয়ে দিচ্ছেন যেন তিনি পিঠে ব্যাথা না পান, আবার পিঠ সোজা রাখতে গিয়ে মাথায় বাড়ি না খান। একইভাবে আমরা যখন গর্ভবতী স্ত্রীর পাশে চিন্তাক্লিষ্ট স্বামীটিকে অস্থিরভাবে পায়চারী করতে দেখি কিংবা সুন্দরী হবু স্ত্রীর দিকে তাকাতে গিয়েও যুবকটিকে চোখে নামিয়ে নিতে দেখি তাতে যে ভালোবাসা প্রকাশ পায় তা যেকোন হৃদয়কেই আপ্লুত করে।
কিন্তু প্রেমের সবটুকুই দৃষ্টিনন্দন নয়। এর একটি পাশবিক দিকও আছে যেটি বন্ধ দরজার আড়ালেই পরিতৃপ্ত করা শ্রেয়। যেমন ক’দিন আগে কাজে যাবার পথে দেখি এক ট্রেন মানুষের সামনে, যেখানে কয়েকমাসের শিশু থেকে কয়েক দশকের বৃদ্ধরাও আছেন, দু’জন যুবক যুবতী নিজেদের একটিমাত্র জ্যাকেট দিয়ে ঢেকে শারীরিক প্রয়োজন পূরণ করছে! ঘটনাটি এতটাই পশুপ্রবৃত্তি প্রকাশক ছিল যে দৃশ্যটি এমনকি কোন নিম্নতর রুচির মানুষের কাছেও উপভোগ্য ছিলোনা বরং সবাই হতভম্ব এবং বিরক্ত হলেও এই ব্যাপারে আইনত কারো কিছু করার নেই বলেই কেউ বাঁধা দিতে পারছিলোনা। ভাবছিলাম, এরা কি করে পারে দাদাদাদীর বয়সী লোকজনের সামনে এত নির্লজ্জ হতে? কিন্তু ব্যাপারটা আসলে সহজবোধ্য।
মানুষের বংশরক্ষার তাগিদেই সৃষ্টিকর্তা এই জৈবিক তাড়না মানুষের মাঝে দিয়ে দিয়েছেন। নইলে কে সেধে স্ত্রীপুত্রকন্যার দায়িত্ব মাথায় নিত? কেইবা বুঝেশুনে সারাজীবন ধরে এতগুলো মানুষের জন্য প্রতিবেলা রান্না করা, কাপড় ধোয়া, ঘর পরিস্কার করার কাজ করত? এটি ক্ষুধা কিংবা তৃষ্ণার চেয়ে অধিক বা অস্বাভাবিক কোন ব্যাপার নয়। তবে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে, সমস্ত সৃষ্টিকুল হতে স্বতন্ত্র এবং বিশেষায়িত করে। প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্যাপারে আমরা এই পার্থক্য দেখতে পাই। যেমন পশুদের মাঝে পুরুষ প্রানী অধিকতর সুন্দর, মানুষের মাঝে নারী; বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করেছেন পশুরা বাঁহাতি কিন্তু মানুষকে তাদের প্রভু বলে দিয়েছেন ডানহাতে অধিকাংশ কাজ করতে; পশুরা কাঁচা খাবার খায় আর মানুষ খায় সেদ্ধ করে। একইভাবে পশুরা বাড়ীঘর না থাকায় সর্বসমক্ষে কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে বাধ্য হলেও মানুষকে বলা হয়েছে এর জন্য বিশেষ পন্থা এবং পদ্ধতি অবলম্বন করতে যেন এর মাধ্যমে যে জীবন পৃথিবীতে আগমন করবে তা বেড়ে ওঠার একটি সুস্থ এবং সুষ্ঠু পরিবেশ পায়।
এই প্রক্রিয়াকে সহজ এবং স্বাভাবিক করার জন্যই সৃষ্টিকর্তা নির্দেশ দিয়েছেন নিজেকে সর্বসমক্ষে কামনার বস্তুরূপে উপস্থাপন না করে নিজের আকর্ষনী শক্তিকে আড়াল করে রাখতে। চাহিদার সৃষ্টি দৃষ্টি থেকে। আমরা যদি না জানি বাসায় মিষ্টি আছে, আমাদের মিষ্টি না খেলেও দিব্যি দিন কেটে যায়। কিন্তু টেবিলের ওপর মিষ্টি আছে অথচ আমি খাবনা তা কি হয়? যদি বলেন, ‘তোমার ডায়াবেটিস, খেলে ক্ষতি হবে’, উত্তর আসবে, ‘আরে ডাক্তার কি জানে? আগে তো খেয়ে নেই, তারপর দেখা যাবে যা হবার হবে!’ একটি মেয়ের সৌন্দর্য যদি কেউ না দেখে তাহলে কেউ জানবেনা মেয়েটি কতটা আকর্ষনীয় এবং তার সবটুকু আবেদন সংরক্ষিত হবে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিটির জন্য। আবার যে মেয়েটির পুরুষদের সাথে মেলামেশা স্বল্প পরিসরে সে স্বামীর প্রতিটি সদ্গুনকেই অ্যাপ্রিশিয়েট করতে পারবে। কিন্তু যে মেয়েটি বহু পুরুষের সাথে মিশে অভ্যস্ত সে বিয়ের পর প্রতিটি মূহূর্ত মনে মনে তুলনা করবে আমার স্বামী দেখতে অমুকের মত সুন্দর না, তমুকের মত সুন্দর করে কথাবার্তা বলতে জানেনা, অমুকের মত গাইতে জানেনা, তমুকের মত স্মার্ট নয়, অমুকের মত বিত্তশালী নয় কিংবা তমুকের মত শক্তিশালী নয় - তখন মনের আক্ষেপ দূর করে সেই লোককে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা কঠিন ব্যাপার বৈকি!
যার আকর্ষনী শক্তি সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত সে নিজেও ভুলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। একটি প্রজাপতি উড়ে এলে তার সৌন্দর্য যাচাই বাছাই কিংবা পরখ করে নেয়া যায়, কিন্তু ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল উড়ে এলে আর বাছাই করার সুযোগ থাকেনা। প্রজাপতিকে মানুষ যত্ন করে ঘরের দেয়ালে বসতে দেয় কিন্তু কারো ঘরে পঙ্গপাল প্রবেশ করবে তা মানুষ দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেনা। নিজেকে প্রদর্শনীতে দিয়ে সাড়া পেলে প্রথম প্রথম সবারই ভাল লাগে। কিন্তু তারপর যখন ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল এসে চারিদিকে ঘিরে ফেলে তখন আর সামাল দিয়ে ওঠা যায়না। তাই এদের জৈবিক তাড়না চরিতার্থ করার কোন নির্দিষ্ট স্থান থাকেনা, কোন বৈধ পন্থাও থাকেনা যেহেতু এরা কেবল ভোগ করতে চায় কিন্তু দায়িত্ব নিতে চায়না। এই চাহিদাপূরনের ফলাফল হিসেবে যে সন্তানের জন্ম হয় তারও কোন নির্দিষ্ট ঠিকানা গড়ে ওঠেনা কারণ সে কেবল একটি জৈবিক প্রক্রিয়ায় ফলাফল, কাঙ্খিত নয় মোটেই। অথচ এই পৃথিবীতে আসার পেছনে বেচারার না হাত ছিল, না ছিল ইচ্ছা। শুরু হয় আরেকটি কষ্টের উপাখ্যান।
খুব কম মানুষের বোধের আয়নায় এই সত্য প্রতিফলিত হয় যে প্রেম কেবল জৈবিক তাড়নার বহিঃপ্রকাশ নয় বরং একটি পবিত্র মানসিক বন্ধন। এই বন্ধনকে মজবুত করার জন্য একে একটি সামাজিক রূপ দেয়া জরুরী যাতে উভয়পক্ষের সামাজিক নিরাপত্তা এবং অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান হয়। তাই প্রেমের সৃষ্টিকর্তা প্রনীত এবং সবচেয়ে শ্বাশ্বত রূপ বিয়ে। এর অর্থ এই নয় যে বিয়ে করলে কোন সমস্যাই হবেনা। দু’জন মানবমানবী যারা দু’টি ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গনে পৃথক পৃথক পরিবেশে বেড়ে উঠেছে তারা মিলিত হলেও দু’টি নদীর মতই সমান্তরালে বহমান থাকবে, একীভূত হবেনা। কিন্তু একটি বিবাহিত দম্পতিকে তাদের পরিবার পরিজন বন্ধু বান্ধব থেকে সম্পূর্ন অপরিচিত লোকজন পর্যন্ত একত্রে বসবাস করতে, নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে সহযোগিতা করে। অপরদিকে একটি অনৈতিক বন্ধনে জড়িত দুই ব্যাক্তি - যাদের সম্পর্কের কোন গন্তব্য নেই, কোন উদ্দেশ্য নেই শুধু নিজেদের চাহিদা পূরণ করা ব্যাতীত - হাতেগোনা কিছু লোকজন ছাড়া কেউ সাহায্য করেনা। ফলে ঠুনকো সম্পর্কটি জোরদার হবার কোন ভিত্তি খুঁজে পায়না। নাটকে সিনেমায় এমন সম্পর্কগুলোর ট্রাজেডি, কমপ্লিকেশন কিংবা হঠাৎ করে সব মেঘ কেটে গিয়ে সূর্য হেসে ওঠা দেখতে যতই ভাল লাগুক না কেন বাস্তবে কেউ এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে চায়না, বাস্তবে এমন আলৌকিকভাবে সমস্যার সমাধান কমই ঘটে।
সুতরাং, আমরা সাবধান হই। একটিমাত্র জীবন আমাদের। ক্ষণিকের আনন্দের জন্য আমরা যেন আত্মনিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে পাহাড়ের ওপর থেকে গিরিখাদে ধারালো পাথরের ওপর আছড়ে পড়ে জীবনাবসানকে বেছে না নেই। বরং আমাদের পছন্দগুলোর ভিত্তি হোক মানবিক গুনের সমাহার, বিশ্বাসের একাত্মতা, পারস্পরিক সম্মানবোধ এবং প্রতিকুলতায় বন্ধুত্বের ছায়া যেন বার্ধক্যের দিনগুলোতে আমরা পরস্পরের হাত ধরে অস্তমিত সূর্যের দিকে হেঁটে যেতে পারি এই প্রগাঢ় বিশ্বাসে যে ওপাড়েও সে আমার হাত ছেড়ে দেবেনা।
লেখাটি নিচের লিঙ্ক থেকে সংগ্রহিতঃ
http://www.onbangladesh.org/blog/blogdetail/detail/3047/rehnuma/20069#.U0lIgfldVvB
প্রেম একটি অসাধারন এবং মোহময় অনুভূতি। সেদিন দেখলাম এক বুড়ো দাদা যিনি নিজেই সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না, ওষুধের দোকান থেকে বেরিয়ে একহাতে তাঁর বৃদ্ধা স্ত্রীকে শক্ত করে ধরে আরেক হাত মাথার ওপর দিয়ে অতি সাবধানে গাড়ীতে বসিয়ে দিচ্ছেন যেন তিনি পিঠে ব্যাথা না পান, আবার পিঠ সোজা রাখতে গিয়ে মাথায় বাড়ি না খান। একইভাবে আমরা যখন গর্ভবতী স্ত্রীর পাশে চিন্তাক্লিষ্ট স্বামীটিকে অস্থিরভাবে পায়চারী করতে দেখি কিংবা সুন্দরী হবু স্ত্রীর দিকে তাকাতে গিয়েও যুবকটিকে চোখে নামিয়ে নিতে দেখি তাতে যে ভালোবাসা প্রকাশ পায় তা যেকোন হৃদয়কেই আপ্লুত করে।
কিন্তু প্রেমের সবটুকুই দৃষ্টিনন্দন নয়। এর একটি পাশবিক দিকও আছে যেটি বন্ধ দরজার আড়ালেই পরিতৃপ্ত করা শ্রেয়। যেমন ক’দিন আগে কাজে যাবার পথে দেখি এক ট্রেন মানুষের সামনে, যেখানে কয়েকমাসের শিশু থেকে কয়েক দশকের বৃদ্ধরাও আছেন, দু’জন যুবক যুবতী নিজেদের একটিমাত্র জ্যাকেট দিয়ে ঢেকে শারীরিক প্রয়োজন পূরণ করছে! ঘটনাটি এতটাই পশুপ্রবৃত্তি প্রকাশক ছিল যে দৃশ্যটি এমনকি কোন নিম্নতর রুচির মানুষের কাছেও উপভোগ্য ছিলোনা বরং সবাই হতভম্ব এবং বিরক্ত হলেও এই ব্যাপারে আইনত কারো কিছু করার নেই বলেই কেউ বাঁধা দিতে পারছিলোনা। ভাবছিলাম, এরা কি করে পারে দাদাদাদীর বয়সী লোকজনের সামনে এত নির্লজ্জ হতে? কিন্তু ব্যাপারটা আসলে সহজবোধ্য।
মানুষের বংশরক্ষার তাগিদেই সৃষ্টিকর্তা এই জৈবিক তাড়না মানুষের মাঝে দিয়ে দিয়েছেন। নইলে কে সেধে স্ত্রীপুত্রকন্যার দায়িত্ব মাথায় নিত? কেইবা বুঝেশুনে সারাজীবন ধরে এতগুলো মানুষের জন্য প্রতিবেলা রান্না করা, কাপড় ধোয়া, ঘর পরিস্কার করার কাজ করত? এটি ক্ষুধা কিংবা তৃষ্ণার চেয়ে অধিক বা অস্বাভাবিক কোন ব্যাপার নয়। তবে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে, সমস্ত সৃষ্টিকুল হতে স্বতন্ত্র এবং বিশেষায়িত করে। প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্যাপারে আমরা এই পার্থক্য দেখতে পাই। যেমন পশুদের মাঝে পুরুষ প্রানী অধিকতর সুন্দর, মানুষের মাঝে নারী; বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করেছেন পশুরা বাঁহাতি কিন্তু মানুষকে তাদের প্রভু বলে দিয়েছেন ডানহাতে অধিকাংশ কাজ করতে; পশুরা কাঁচা খাবার খায় আর মানুষ খায় সেদ্ধ করে। একইভাবে পশুরা বাড়ীঘর না থাকায় সর্বসমক্ষে কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে বাধ্য হলেও মানুষকে বলা হয়েছে এর জন্য বিশেষ পন্থা এবং পদ্ধতি অবলম্বন করতে যেন এর মাধ্যমে যে জীবন পৃথিবীতে আগমন করবে তা বেড়ে ওঠার একটি সুস্থ এবং সুষ্ঠু পরিবেশ পায়।
এই প্রক্রিয়াকে সহজ এবং স্বাভাবিক করার জন্যই সৃষ্টিকর্তা নির্দেশ দিয়েছেন নিজেকে সর্বসমক্ষে কামনার বস্তুরূপে উপস্থাপন না করে নিজের আকর্ষনী শক্তিকে আড়াল করে রাখতে। চাহিদার সৃষ্টি দৃষ্টি থেকে। আমরা যদি না জানি বাসায় মিষ্টি আছে, আমাদের মিষ্টি না খেলেও দিব্যি দিন কেটে যায়। কিন্তু টেবিলের ওপর মিষ্টি আছে অথচ আমি খাবনা তা কি হয়? যদি বলেন, ‘তোমার ডায়াবেটিস, খেলে ক্ষতি হবে’, উত্তর আসবে, ‘আরে ডাক্তার কি জানে? আগে তো খেয়ে নেই, তারপর দেখা যাবে যা হবার হবে!’ একটি মেয়ের সৌন্দর্য যদি কেউ না দেখে তাহলে কেউ জানবেনা মেয়েটি কতটা আকর্ষনীয় এবং তার সবটুকু আবেদন সংরক্ষিত হবে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিটির জন্য। আবার যে মেয়েটির পুরুষদের সাথে মেলামেশা স্বল্প পরিসরে সে স্বামীর প্রতিটি সদ্গুনকেই অ্যাপ্রিশিয়েট করতে পারবে। কিন্তু যে মেয়েটি বহু পুরুষের সাথে মিশে অভ্যস্ত সে বিয়ের পর প্রতিটি মূহূর্ত মনে মনে তুলনা করবে আমার স্বামী দেখতে অমুকের মত সুন্দর না, তমুকের মত সুন্দর করে কথাবার্তা বলতে জানেনা, অমুকের মত গাইতে জানেনা, তমুকের মত স্মার্ট নয়, অমুকের মত বিত্তশালী নয় কিংবা তমুকের মত শক্তিশালী নয় - তখন মনের আক্ষেপ দূর করে সেই লোককে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা কঠিন ব্যাপার বৈকি!
যার আকর্ষনী শক্তি সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত সে নিজেও ভুলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। একটি প্রজাপতি উড়ে এলে তার সৌন্দর্য যাচাই বাছাই কিংবা পরখ করে নেয়া যায়, কিন্তু ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল উড়ে এলে আর বাছাই করার সুযোগ থাকেনা। প্রজাপতিকে মানুষ যত্ন করে ঘরের দেয়ালে বসতে দেয় কিন্তু কারো ঘরে পঙ্গপাল প্রবেশ করবে তা মানুষ দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেনা। নিজেকে প্রদর্শনীতে দিয়ে সাড়া পেলে প্রথম প্রথম সবারই ভাল লাগে। কিন্তু তারপর যখন ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল এসে চারিদিকে ঘিরে ফেলে তখন আর সামাল দিয়ে ওঠা যায়না। তাই এদের জৈবিক তাড়না চরিতার্থ করার কোন নির্দিষ্ট স্থান থাকেনা, কোন বৈধ পন্থাও থাকেনা যেহেতু এরা কেবল ভোগ করতে চায় কিন্তু দায়িত্ব নিতে চায়না। এই চাহিদাপূরনের ফলাফল হিসেবে যে সন্তানের জন্ম হয় তারও কোন নির্দিষ্ট ঠিকানা গড়ে ওঠেনা কারণ সে কেবল একটি জৈবিক প্রক্রিয়ায় ফলাফল, কাঙ্খিত নয় মোটেই। অথচ এই পৃথিবীতে আসার পেছনে বেচারার না হাত ছিল, না ছিল ইচ্ছা। শুরু হয় আরেকটি কষ্টের উপাখ্যান।
খুব কম মানুষের বোধের আয়নায় এই সত্য প্রতিফলিত হয় যে প্রেম কেবল জৈবিক তাড়নার বহিঃপ্রকাশ নয় বরং একটি পবিত্র মানসিক বন্ধন। এই বন্ধনকে মজবুত করার জন্য একে একটি সামাজিক রূপ দেয়া জরুরী যাতে উভয়পক্ষের সামাজিক নিরাপত্তা এবং অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান হয়। তাই প্রেমের সৃষ্টিকর্তা প্রনীত এবং সবচেয়ে শ্বাশ্বত রূপ বিয়ে। এর অর্থ এই নয় যে বিয়ে করলে কোন সমস্যাই হবেনা। দু’জন মানবমানবী যারা দু’টি ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গনে পৃথক পৃথক পরিবেশে বেড়ে উঠেছে তারা মিলিত হলেও দু’টি নদীর মতই সমান্তরালে বহমান থাকবে, একীভূত হবেনা। কিন্তু একটি বিবাহিত দম্পতিকে তাদের পরিবার পরিজন বন্ধু বান্ধব থেকে সম্পূর্ন অপরিচিত লোকজন পর্যন্ত একত্রে বসবাস করতে, নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে সহযোগিতা করে। অপরদিকে একটি অনৈতিক বন্ধনে জড়িত দুই ব্যাক্তি - যাদের সম্পর্কের কোন গন্তব্য নেই, কোন উদ্দেশ্য নেই শুধু নিজেদের চাহিদা পূরণ করা ব্যাতীত - হাতেগোনা কিছু লোকজন ছাড়া কেউ সাহায্য করেনা। ফলে ঠুনকো সম্পর্কটি জোরদার হবার কোন ভিত্তি খুঁজে পায়না। নাটকে সিনেমায় এমন সম্পর্কগুলোর ট্রাজেডি, কমপ্লিকেশন কিংবা হঠাৎ করে সব মেঘ কেটে গিয়ে সূর্য হেসে ওঠা দেখতে যতই ভাল লাগুক না কেন বাস্তবে কেউ এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে চায়না, বাস্তবে এমন আলৌকিকভাবে সমস্যার সমাধান কমই ঘটে।
সুতরাং, আমরা সাবধান হই। একটিমাত্র জীবন আমাদের। ক্ষণিকের আনন্দের জন্য আমরা যেন আত্মনিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে পাহাড়ের ওপর থেকে গিরিখাদে ধারালো পাথরের ওপর আছড়ে পড়ে জীবনাবসানকে বেছে না নেই। বরং আমাদের পছন্দগুলোর ভিত্তি হোক মানবিক গুনের সমাহার, বিশ্বাসের একাত্মতা, পারস্পরিক সম্মানবোধ এবং প্রতিকুলতায় বন্ধুত্বের ছায়া যেন বার্ধক্যের দিনগুলোতে আমরা পরস্পরের হাত ধরে অস্তমিত সূর্যের দিকে হেঁটে যেতে পারি এই প্রগাঢ় বিশ্বাসে যে ওপাড়েও সে আমার হাত ছেড়ে দেবেনা।
লেখাটি নিচের লিঙ্ক থেকে সংগ্রহিতঃ
http://www.onbangladesh.org/blog/blogdetail/detail/3047/rehnuma/20069#.U0lIgfldVvB
এই কামপ্রচারণার সমাজে যখন বিয়ে এক দুঃসাধ্য কঠিন কাজ তখন কী করবে মুসলিম তরুণ-তরুণীরা?
আমরা জানি এই কামপ্রচারণার সমাজে চরিত্র রক্ষা একটা বড় কঠিন পরীক্ষা। চরিত্র রক্ষা তো ঈমানের বড় পরীক্ষা ও দায়িত্ব। তাই, বিয়ের জন্য অনুপ্রাণিত করি আমরা। তবে একটা কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, হতাশ হবেন না, 'লা তাহযান'। মনে রাখবেন, আল্লাহ আপনার জন্য, আমার জন্য, আমাদের জন্য যা নির্ধারিত রেখেছেন--সেটাই হয়েছে, সেটাই হবে। মনে রাখবেন, আল্লাহ যা নির্ধারিত রেখেছেন, গোটা পৃথিবীর সবাই মিলে চাইলেও আপনাকে তা পাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবেন না। আল্লাহ যা আপনাকে দিবেন না, তা গোটা পৃথিবী চাইলেও আপনাকে তুলে দিতে পারবে না।
নষ্ট আর ক্ষয়ে যাওয়া এই জঘন্য সংস্কৃতির সমাজকে পরিবর্তন করে উন্নত করতে আমাদের যতটুকুই অবদান থাকবে, আল্লাহ ইনশা আল্লাহ কল্পনাতীত উপায়ে আমাদেরকে তার বিনিময় দিবেন। ঈমানদার মানেই তার সবকিছু সহজ হবে এমন না। ঈমানদারদের জীবন হবে পরীক্ষাময়। আজকের পৃথিবীতে বিয়ে যেমন কঠিন হয়েছে, এই পরীক্ষায় আমাদের কৃতকার্য হতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। বিয়ে করলেই যে জীবন সহজ হয়ে যায়, তা কিন্তু নয়। দ্বীনদার পাত্র কিংবা পাত্রী পাওয়া কিন্তু যথেষ্টই কঠিন। ভুল বিয়ের চেয়ে বিয়ে দেরি হওয়া কম কল্যাণকর নয়। ভুল লোকের সাথে বিয়ে হয়ে অনেক মানুষের জীবনেই দুর্ভোগের শেষ নেই তা আশেপাশে তাকালেই আমরা প্রায় সবাই দেখতে পাই। কে জানে হয়ত এই কঠিন সময়ে বিয়ে না হওয়ার মাঝেই আল্লাহ অবিবাহিত ভাইবোনদের জন্য কল্যাণ রেখে দিয়েছিলেন। আলিমুল গাইব তো একমাত্র আল্লাহই। তার সাথে অন্তরকে লাগিয়ে রাখুন,তার কাছে দোয়া করতে থাকুন। তিনি আপনাকে পথ দেখাবেন। তিনি আপনাকে দুনিয়া আর আখিরাতে শ্রেষ্ঠ রিযিক দান করবেন, ইনশা আল্লাহ আপনার জন্য সেরা জীবনসঙ্গী সঠিক সময়ে হাজির হবে।
আল্লাহ আমাদেরকে উত্তম, চোখ শীতলকরা জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনী দান করুন।আল্লাহ আমাদেরকে একটি সুন্দর ইসলামী সমাজ গঠনের জন্য কবুল করে নিন। আল্লাহ আমাদের সন্তানদেরকে দ্বীনদার আর মুত্তাকী করে গড়ে তুলতে সক্ষম উত্তম বাবা-মা দান করুন। নিশ্চয়ই সমস্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কারো কোন ক্ষমতা নেই।
লেখাটি নিচের লিঙ্ক থেকে সংগ্রহিতঃ
http://www.onbangladesh.org/blog/blogdetail/detail/7017/safwanism/41983#.U0fgEvldVvB
নষ্ট আর ক্ষয়ে যাওয়া এই জঘন্য সংস্কৃতির সমাজকে পরিবর্তন করে উন্নত করতে আমাদের যতটুকুই অবদান থাকবে, আল্লাহ ইনশা আল্লাহ কল্পনাতীত উপায়ে আমাদেরকে তার বিনিময় দিবেন। ঈমানদার মানেই তার সবকিছু সহজ হবে এমন না। ঈমানদারদের জীবন হবে পরীক্ষাময়। আজকের পৃথিবীতে বিয়ে যেমন কঠিন হয়েছে, এই পরীক্ষায় আমাদের কৃতকার্য হতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। বিয়ে করলেই যে জীবন সহজ হয়ে যায়, তা কিন্তু নয়। দ্বীনদার পাত্র কিংবা পাত্রী পাওয়া কিন্তু যথেষ্টই কঠিন। ভুল বিয়ের চেয়ে বিয়ে দেরি হওয়া কম কল্যাণকর নয়। ভুল লোকের সাথে বিয়ে হয়ে অনেক মানুষের জীবনেই দুর্ভোগের শেষ নেই তা আশেপাশে তাকালেই আমরা প্রায় সবাই দেখতে পাই। কে জানে হয়ত এই কঠিন সময়ে বিয়ে না হওয়ার মাঝেই আল্লাহ অবিবাহিত ভাইবোনদের জন্য কল্যাণ রেখে দিয়েছিলেন। আলিমুল গাইব তো একমাত্র আল্লাহই। তার সাথে অন্তরকে লাগিয়ে রাখুন,তার কাছে দোয়া করতে থাকুন। তিনি আপনাকে পথ দেখাবেন। তিনি আপনাকে দুনিয়া আর আখিরাতে শ্রেষ্ঠ রিযিক দান করবেন, ইনশা আল্লাহ আপনার জন্য সেরা জীবনসঙ্গী সঠিক সময়ে হাজির হবে।
আল্লাহ আমাদেরকে উত্তম, চোখ শীতলকরা জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনী দান করুন।আল্লাহ আমাদেরকে একটি সুন্দর ইসলামী সমাজ গঠনের জন্য কবুল করে নিন। আল্লাহ আমাদের সন্তানদেরকে দ্বীনদার আর মুত্তাকী করে গড়ে তুলতে সক্ষম উত্তম বাবা-মা দান করুন। নিশ্চয়ই সমস্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কারো কোন ক্ষমতা নেই।
লেখাটি নিচের লিঙ্ক থেকে সংগ্রহিতঃ
http://www.onbangladesh.org/blog/blogdetail/detail/7017/safwanism/41983#.U0fgEvldVvB
বিয়ের আগে দু'জনার মিল কতটুকু তা কি হিসেব করছেন?
বিয়ের প্রয়োজন হিসেবে "সেইম মুভি, সেইম মিউজিশিয়ান" মিল নিয়ে বিয়ে করার টিপস পেতে পারেন অনেক পশ্চিমা ম্যারেজ অ্যাডভাইসে। মুসলিমদের এত ক্যাচালের প্রয়োজন হয় না। আপনি আল্লাহর জন্য জীবন যাপন করতে চান, তখন যতই অমিল থাকুক, কুরআন এবং সুন্নাহতে ফিরে আসবেন এবং সমস্যার সমাধান মিলে যাবেই ইনশা আল্লাহ।
তবে দু'জনে ইসলামকে *কীভাবে বুঝেন* সেইটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারো কাছে অনেক কিছুই 'কোন ব্যাপার নাহ', শাহবাগী একটা মেয়ের ইসলামের বুঝ নিশ্চয়ই একজন প্রকৃত মুসলিম ভাইয়ের বুঝের মতন না, সত্য এবং মিথ্যা কখনই এক না। শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে বেড়ানো এবং ভ্যালেন্টাইন ডে'তে বিশ্বাসী শাহবাগী ছেলের সাথে কোন মুসলিমাহ বোনের মিল হতে পারে না। তাই, খেয়াল করে নিবেন যেন নামমাত্র মুসলিম যেন না হয়, শিরক এবং কুফরের সাথে জড়িয়ে থাকা কাউকে আপনি ভুলে জীবনসঙ্গী হিসেবে নিতে যাচ্ছেন কিনা।
ইসলাম খুব সহজ। ইসলাম সহজতম এবং সুন্দরতম বিধান। আল্লাহ আমাদেরকে ভার হালকা করতে চান, তাই তিনি বিধান দিয়েছেন। শিরক, কুফর এবং বিদয়াত থেকে দূরে থাকা ছেলেমেয়েদের তাই জীবন এমনিতেই সহজ। আল্লাহ আমাদের ভাই ও বোনদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দিন এবং তাদের জীবনকে কবুল করে নিন, তাদের সুন্দর দাম্পত্য জীবন দান করুন।
নিজে উপযুক্ত যোগ্যতা অর্জন না করে ভালো পার্টনারের আশা করা হচ্ছে আকাশ কুসুম কল্পনা...
ভালো হাজব্যান্ড বা ভালো ওয়াইফের স্বপ্ন দেখলেই হয়না, তার জন্য নিজেও যোগ্য হতে হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামায সময়মত আদায় করা, দৈনন্দিন জীবনের চলার পথে প্রয়োজনীয় ফিকহী মাসয়ালা জানা, দাড়ি রাখা বা নিকাব/হিজাব পরা, মিথ্যা না বলা, গীবত না করা, গাইর-মাহরাম ছেলে/মেয়েদের সাথে আড্ডাবাজি না করার মতন আরো অনেক অনেক বিষয় আছে যা একটা মুসলিম ছেলেমেয়ের থাকা উচিত।
একটা ক্ষুদ্রতম উদাহরণ দেই,
আল্লাহর নিয়ম মেনে চলা একটা নিকাবী মেয়ে যদি দেখতে পায় যে তার সম্ভাব্য লাইফ-পার্টনার নায়িকা/গায়িকাদের পেইজে লাইক দিয়ে রেখেছেন, তাদের ছবিতে লাইক দেন -- তার কাছে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে ভেবেছেন?
যিনি সংযত আর যিনি যাচ্ছেতাই, তারা দু'জন সমান নন। আপনি নিজে যেমনটা পেতে ভালোবাসেন, তেমনটা দিতে চেষ্টা করুন... তবেই তা সঠিক হবে।
আগে যোগ্য হউন, পরে আশা করুন।
FIRST DESERVE, THEN DESIRE.
লেখাটি নিচের লিঙ্ক থেকে সংগ্রহিতঃ
http://www.onbangladesh.org/blog/blogdetail/detail/7017/safwanism/39748#.U0fgD_ldVvB
তবে দু'জনে ইসলামকে *কীভাবে বুঝেন* সেইটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারো কাছে অনেক কিছুই 'কোন ব্যাপার নাহ', শাহবাগী একটা মেয়ের ইসলামের বুঝ নিশ্চয়ই একজন প্রকৃত মুসলিম ভাইয়ের বুঝের মতন না, সত্য এবং মিথ্যা কখনই এক না। শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে বেড়ানো এবং ভ্যালেন্টাইন ডে'তে বিশ্বাসী শাহবাগী ছেলের সাথে কোন মুসলিমাহ বোনের মিল হতে পারে না। তাই, খেয়াল করে নিবেন যেন নামমাত্র মুসলিম যেন না হয়, শিরক এবং কুফরের সাথে জড়িয়ে থাকা কাউকে আপনি ভুলে জীবনসঙ্গী হিসেবে নিতে যাচ্ছেন কিনা।
ইসলাম খুব সহজ। ইসলাম সহজতম এবং সুন্দরতম বিধান। আল্লাহ আমাদেরকে ভার হালকা করতে চান, তাই তিনি বিধান দিয়েছেন। শিরক, কুফর এবং বিদয়াত থেকে দূরে থাকা ছেলেমেয়েদের তাই জীবন এমনিতেই সহজ। আল্লাহ আমাদের ভাই ও বোনদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দিন এবং তাদের জীবনকে কবুল করে নিন, তাদের সুন্দর দাম্পত্য জীবন দান করুন।
নিজে উপযুক্ত যোগ্যতা অর্জন না করে ভালো পার্টনারের আশা করা হচ্ছে আকাশ কুসুম কল্পনা...
ভালো হাজব্যান্ড বা ভালো ওয়াইফের স্বপ্ন দেখলেই হয়না, তার জন্য নিজেও যোগ্য হতে হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামায সময়মত আদায় করা, দৈনন্দিন জীবনের চলার পথে প্রয়োজনীয় ফিকহী মাসয়ালা জানা, দাড়ি রাখা বা নিকাব/হিজাব পরা, মিথ্যা না বলা, গীবত না করা, গাইর-মাহরাম ছেলে/মেয়েদের সাথে আড্ডাবাজি না করার মতন আরো অনেক অনেক বিষয় আছে যা একটা মুসলিম ছেলেমেয়ের থাকা উচিত।
একটা ক্ষুদ্রতম উদাহরণ দেই,
আল্লাহর নিয়ম মেনে চলা একটা নিকাবী মেয়ে যদি দেখতে পায় যে তার সম্ভাব্য লাইফ-পার্টনার নায়িকা/গায়িকাদের পেইজে লাইক দিয়ে রেখেছেন, তাদের ছবিতে লাইক দেন -- তার কাছে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে ভেবেছেন?
যিনি সংযত আর যিনি যাচ্ছেতাই, তারা দু'জন সমান নন। আপনি নিজে যেমনটা পেতে ভালোবাসেন, তেমনটা দিতে চেষ্টা করুন... তবেই তা সঠিক হবে।
আগে যোগ্য হউন, পরে আশা করুন।
FIRST DESERVE, THEN DESIRE.
লেখাটি নিচের লিঙ্ক থেকে সংগ্রহিতঃ
http://www.onbangladesh.org/blog/blogdetail/detail/7017/safwanism/39748#.U0fgD_ldVvB
Friday, April 11, 2014
জীবনসঙ্গী খুঁজছেন কিন্তু পাচ্ছেন না? তবে আপনাকেই বলছি
চারপাশে সবাই বিভিন্ন দিবসের নামে সেজেগুজে বেড়াচ্ছে... প্রচুর ছেলে দেখা যায়, প্রচুর মেয়ে দেখা যায়। কিন্তু আপনার জীবনসঙ্গী হবার মতন কোন মানুষকে আপনি মনে মনে হলেও কোথাও খুঁজে পান না, তাইনা? হয়ত ভাবছেন, কোথায় পাবেন আপনার মানুষটাকে, কে খুঁজে দেবে আপনার উপযুক্ত জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনী?
জ্বি, আপনাকেই বলছি। আপনি কি আল্লাহর বান্দা বলে নিজেকে স্বীকার করে নিয়েছেন? আপনি কি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানতে প্রতি ওয়াক্তে আজানের পরে ত্রস্তব্যস্ত হয়ে নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন প্রতিদিন?
তাহলে আপনার প্রশ্নটির উত্তর আছে। যেই আপনি আজ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আগামী সপ্তাহে কোন বেলায় কী খাবেন সেই বিষয়ে কোন ধারণা না থাকলেও টেনশন ছাড়াই ঘুমাতে যাচ্ছেন, কেননা আল্লাহ আপনার জন্য যেভাবেই হোক কোন না কোনভাবে উপায় বের করে দেন খাবারের... সেই আল্লাহই আপনার জন্য উত্তম সঙ্গী/সঙ্গিনী খুঁজে দিবেন।
তিনি আপনাকে এসব নিয়ে চিন্তায় অস্থির হতে বলেছেন? আল্লাহ ছাড়া কে আছে মুমিনের উত্তম অভিভাবক? 'হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল' বলে আপনি কি দোয়া করছেন না 'রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ'ইয়ুনিউ ওয়া জা'আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা'?
তাহলে আপনি নিশ্চিত জেনে রাখুন, এই পৃথিবীর কোন এক কোণে আপনার জন্য একটা মানুষকে আল্লাহ বড় করছেন। আপনি যখন কান্নাকাটি করে অশ্রুভেজা প্রার্থনা করছেন যেন আল্লাহ তাকে সুরক্ষিত রাখেন, হেফাজত করেন এই সমাজের অশ্লীলতা/বেহায়াপনা থেকে, আল্লাহ তাকে যেন হতাশা থেকে দূরে রেখে ঈমানের পথে চলার তাওফিক দেন -- তিনিও কিন্তু আপনার জন্য বসে দোয়া করছেন আপনার মত করেই ইনশা আল্লাহ...
যে কাজের সাধ্য ও ক্ষমতা আপনার নেই, তা করতে গিয়ে অকারণে বোকা হতে যাবেন না। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলুন। সবসময় আশাবাদী থাকুন। মনে রাখবেন, আল্লাহ আপনার জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল আছেন। আর তিনি তার প্রিয় বান্দাদেরকে কখনই অকল্যাণ হতে দিবেন না, দেন না। শুধু একটা চেষ্টাই করবেন -- আল্লাহর আরো কাছে যাওয়া, আরো বেশি প্রিয়ভাজন হওয়া, ঈমানকে আরো বাড়িয়ে আরো বেশি ইবাদাত করা... আল্লাহই আপনার অভিভাবক হয়ে যাবেন তখন, ইনশা আল্লাহ...
লেখাটি নিচের লিঙ্ক থেকে সংগ্রহিতঃ
বর বা কনে খোঁজা কি বাজারে কোন প্রোডাক্ট কিনতে যাওয়ার মতন?
স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে যে মানুষটাকে সঙ্গী করে নিবেন, সে কিন্তু বাজারে গিয়ে ১০টা বেছে নেয়া কোন প্রোডাক্ট না। তিনি একজন মানুষ। আপনার জীবনের বাকিটা সময় তিনি আপনাকে সঙ্গ দিবেন, যতদিন আল্লাহ হায়াত রাখবেন দুনিয়ার বুকে। তবু সময়টা হয়ত ৪০-৫০ বছর বড়জোর। এটা যেমন ফেলে দেয়ার মতন কোন বিষয় অবশ্যই নয়, অতিরিক্ত চিন্তিত হবার বিষয়ও নয়।
আপনি যদি আপনার আত্মিক/শারীরিক/বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা হিসেব করেই নিজের সমমনা কাউকে খুঁজতে যা্ন... এবং একের পর এক মোটামুটি আপত্তিকর কিছু না পেলেও যদি মনে করেন, হয়ত এর চেয়েও ভালো কাউকে পেতে পারেন-- তাহলে হয়ত নিশ্চিত ঠকে যাবেন জীবনে।
এই পৃথিবীতে সত্যি অজস্র সুন্দর মনের, শরীরের, চিন্তার মানুষ আছে। কিন্তু সবার সাথে আপনার মিলবে না/ আপনার সাথে তাদের মিলবে না। আপনি খুঁজে দেখুন আপনার এই জীবনের সঙ্গী হিসেবে কাকে নিলে চলবে।
আবার বলছি, আপনি (হোক তা আপনার যোগ্যতার অনুপাতেই) যতই 'যোগ্যতম' মানুষ খুঁজতে যাবেন, আপনি খুঁজতেই থাকবেন হন্যে হয়ে। খুঁজে নিন দ্বীনদার কোন নারী/পুরুষ (এটাই মূল/আবশ্যক/প্রধান বিষয়), যার সাথে আপনার মিলবে, আপনার জান্নাতের পথযাত্রায় তিনি সঙ্গী হতে পারবেন, যার পরিবারের সাথে আপনার পরিবারের সম্পর্ক সৃষ্টি খুব বড় জটিলতার কারণ হয়ে আপনাদের সম্পর্ককে ধ্বংস করবে না...
নিয়্যাত রাখুন আল্লাহকে খুশি করতে, তার অনুগত বান্দা হিসেবে চরিত্র নিয়ে টিকে থাকতে, উত্তম বংশধর পৃথিবীতে আনার নিয়াতে আপনি একজন সঙ্গী খুঁজছেন, আল্লাহ ইনশা আল্লাহ আপনাকে পথ খুঁজে দিবেন।
আমাদের প্রিয়জনেরা পৃথিবীর মধ্যে সেরা মানুষ না হতে পারে, তারা আমাদের জন্য পৃথিবীর বুকে সেরা মানুষ। চারপাশে তাকিয়ে তাই ভুল বুঝে বোকা হবেন না। আল্লাহর পৃথিবী অনেক বড়, মানুষের গুণাবলীও অনেক। আল্লাহ যেন আপনাকে তার পছন্দের, ভালোবাসার মানুষটিকে মিলিয়ে দেন-- সেটা যেন হয় চাওয়া...
লেখাটি নিচের লিঙ্ক থেকে সংগ্রহিতঃ
http://www.onbangladesh.org/blog/blogdetail/detail/7017/safwanism/40958#.U0fgBvldVvB
আপনি যদি আপনার আত্মিক/শারীরিক/বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা হিসেব করেই নিজের সমমনা কাউকে খুঁজতে যা্ন... এবং একের পর এক মোটামুটি আপত্তিকর কিছু না পেলেও যদি মনে করেন, হয়ত এর চেয়েও ভালো কাউকে পেতে পারেন-- তাহলে হয়ত নিশ্চিত ঠকে যাবেন জীবনে।
এই পৃথিবীতে সত্যি অজস্র সুন্দর মনের, শরীরের, চিন্তার মানুষ আছে। কিন্তু সবার সাথে আপনার মিলবে না/ আপনার সাথে তাদের মিলবে না। আপনি খুঁজে দেখুন আপনার এই জীবনের সঙ্গী হিসেবে কাকে নিলে চলবে।
আবার বলছি, আপনি (হোক তা আপনার যোগ্যতার অনুপাতেই) যতই 'যোগ্যতম' মানুষ খুঁজতে যাবেন, আপনি খুঁজতেই থাকবেন হন্যে হয়ে। খুঁজে নিন দ্বীনদার কোন নারী/পুরুষ (এটাই মূল/আবশ্যক/প্রধান বিষয়), যার সাথে আপনার মিলবে, আপনার জান্নাতের পথযাত্রায় তিনি সঙ্গী হতে পারবেন, যার পরিবারের সাথে আপনার পরিবারের সম্পর্ক সৃষ্টি খুব বড় জটিলতার কারণ হয়ে আপনাদের সম্পর্ককে ধ্বংস করবে না...
নিয়্যাত রাখুন আল্লাহকে খুশি করতে, তার অনুগত বান্দা হিসেবে চরিত্র নিয়ে টিকে থাকতে, উত্তম বংশধর পৃথিবীতে আনার নিয়াতে আপনি একজন সঙ্গী খুঁজছেন, আল্লাহ ইনশা আল্লাহ আপনাকে পথ খুঁজে দিবেন।
আমাদের প্রিয়জনেরা পৃথিবীর মধ্যে সেরা মানুষ না হতে পারে, তারা আমাদের জন্য পৃথিবীর বুকে সেরা মানুষ। চারপাশে তাকিয়ে তাই ভুল বুঝে বোকা হবেন না। আল্লাহর পৃথিবী অনেক বড়, মানুষের গুণাবলীও অনেক। আল্লাহ যেন আপনাকে তার পছন্দের, ভালোবাসার মানুষটিকে মিলিয়ে দেন-- সেটা যেন হয় চাওয়া...
লেখাটি নিচের লিঙ্ক থেকে সংগ্রহিতঃ
http://www.onbangladesh.org/blog/blogdetail/detail/7017/safwanism/40958#.U0fgBvldVvB
Subscribe to:
Posts (Atom)